মানুষের তৈরি প্রথম নভোযান

মানুষের তৈরি প্রথম মহাকাশযান বলা যায় ঘুড়িকে। ঘুড়ির মাধ্যমেই মানুষ মহাকাশ জয় করার স্বপ্ন দেখেছিল। চীন দেশের এক কিংবদন্তীতে বলা হয়, মিং সামাজ্যের সময়ে (১৩৬৪-১৬৪৪) ওয়ান হু নামের এক ব্যক্তি বিশ্বের প্রথম মহাকাশচারী মানুষে পরিণত হওয়ার প্রত্যাশায় বিস্ময়কর এক অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ্একটি চেয়ারের সাথে নিজেকে বেঁধে ‍চেয়ারের প্রতিটি হাতলের সাথে বিশাল বিশাল ঘুড়ি সংযুক্ত করেন। তারপর বারুদপূর্ণ একটি বাঁশের নল নিচে লাগিয়ে দেন। তারপর ভৃত্যদের নির্দেশ দেন নলের নিচে আগুন ধরিয়ে দিতে। আগুন লাগানোর সাথে সাথে প্রচন্ড শব্দ ও প্রচুর ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। ধোঁয়া কেটে যাওয়ার পর হু বা তার চেয়ারের কোনো আলামত আর দেখা যায়নি। তখন অনেকেই মনে করেছিল, হু তার চেয়ার সমেত মহাকাশে চলে গেছে। মহাকাশ জয়ে এটিই সম্ভবত প্রথম উদ্যোগ। আর তাতেও ঘুড়ি ছিল প্রধান উপাদান।

প্রথম দিকে ‍ঘুড়ি তৈরি হতো কাপড় দিয়ে। তাকে বাঁশ বা কাঠের ফ্রেম আঁটা হতো। কাগজ অাবিষ্কৃত হওয়ার পর তাই ঘুড়ি নির্মাণে ব্যবহার করা হতে থাকে। তবে কাপড়, প্লাস্টিক ইত্যাদির ঘুড়ি এখনো প্রচলিত। সারা বিশ্বে এখন শত শত আকার, প্রকার এবং রঙের ঘুড়ি দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে ঘুড়ি উড়ানোর শত শত বছরের ঐতিহ্য আছে। বৈচিত্র্যপূর্ণতার দিক থেকে চীন, জাপান ইত্যাদি দেশের ঘুড়িগুলোর বেশ সুনাম আছে্। ‍এক চীনেই আছে প্রায় ‍তিনশ’ ধরণের ঘুড়ি। মাছ, ড্রাগন, প্রজাপতি, ময়ূর, ঈগল, পরী, ‍জাহাজ, পাখি, কাল্পনিক নানা জন্তু এমনকি মানুষের আকৃতির ঘুড়ি সেখানে উড়ানো হয়ে থাকে। বিশ্বের অনেক স্থানে এমনকি রাতের বেলায় লন্ঠন ঘুড়ি উড়ানোর রেওয়াজও দেখা যায়। সম্ভবত ১৯৮৭ সালের ১৫ নভেম্বর ফ্রান্সের আকাশে বৃহত্তম ঘুড়িটি উড়েছিল। ঘুড়িটি লম্বায় ছিল ৭০৫ মিটার। মাইকেল ট্রায়লেট, ফিলিপ বোস্টন ও পিয়েরে এগলিন ঘুড়িটি উড়িয়েছিলেন। একই বছরের ১৫ মার্চ জাপানের হিরোশিমা ক্লাবের সদস্যরা একসাথে ২ হাজার ২৩৩টি ঘুড়ি উড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছিল। আর আমেরিকায় ১৯৮৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ঘন্টায় ১৯৩ কিলোমিটার বেগে ঘুড়ি উড়িয়ে সবচেয়ে গতিশীল ঘুড়ি উড়ানোর রেকর্ড গড়া হয়েছিল। আমেরিকারই এডমন্ডস কমিউনিটি কলেজের কিছু ঘুড়িপাগল ছাত্র ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে টানা ১৮০ ঘন্টা ১৭ মিনিট ঘুড়ি উড়িয়ে রেকর্ড করেছিল। পরের বছর আমেরিকাতেই ৭২৫৭ কিলোগ্রাম ওজনের ঘুড়ি উড়িয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল। ১৯১৯ সালে জার্মানিতেও সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৩১,৯৯৫  ফুট উঁচুতে একটি ঘুড়ি উড়িয়ে রেকর্ড গড়া হয়। ঘুড়ি কিন্তু এমনি এমনি ওড়ে না। এখানেও বিজ্ঞানের কারসাজি আছে। ঘুড়ির ওপর কাজ করে দু’টি পরস্পরবিরোধী শক্তি। একটি বাতাসের আকর্ষণ শক্তি, অন্যটি মাধ্যমে নিম্নভিমুখী টান। এই দু’টি শক্তির ভারসম্যের ওপরই নির্ভর্ করে ঘুড়ি কিভাবে উড়বে। এই দু’টি শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য একেক ধরণের ঘুড়ি একেকভাবে তৈরি করা হয়।

Comments

Popular posts from this blog

Lukochuri: A Traditional Game of Bangladesh

বাংলাদেশের জাতীয় পাখি দোয়েল

বাস্পীয় ইঞ্জিনের আবিষ্কার (Steam Engine)